কীভাবে দু’আ করলে আল্লাহ কবুল করবেন? (দু’আ কবুলের শর্তাবলী ও আদবসমূহ)

দোয়া কবুলের উপাই

কীভাবে দু’আ করলে আল্লাহ কবুল করবেন?
(দু’আ কবুলের শর্তাবলী ও আদবসমূহ)


(১) দৃঢ় বিশ্বাস রেখে দু’আ করা :
♦ রাসূল সা. বলেন, “হে মানুষেরা! তোমরা যখন আল্লাহর কাছে চাইবে তখন কবুল হওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে চাইবে; কারণ কোনো বান্দা অমনোযোগী অন্তরে দু’আ করলে আল্লাহ তার দু’আ কবুল করেন না।” (সহিহুত তারগিব ২/১৩৩, হাসান)

(২) প্রথমে নিজের জন্য দু’আ করা :
♦ আবু আইয়ূব আনসারি রা. বলেন, “নবি সা. যখন দু’আ করতেন তখন নিজেকে দিয়ে শুরু করতেন।” (আহমাদ ৫/১২১, মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১৫২, হাসান)

(৩) অনুপস্থিতের জন্য দু’আ করলে কবুল হয় :
♦ রাসূল সা. বলেন, “কোনো মুসলিম যখন তার কোনো অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দু’আ করে তখন আল্লাহ তার দু’আ কবুল করেন।” (মুসলিম ৪/২০৯৪)

(৪) আল্লাহর ইসমে আযম (মহিমান্বিত নাম) দিয়ে দু’আ করা :
♦ এক ব্যক্তি সালাতের বৈঠকে আল্লাহর ইসমে আযম দিয়ে দু’আ করছিলেন। তখন রাসূল সা. বলেন, “নিশ্চয়ই সে আল্লাহর কাছে তাঁর ইসমে আযম ধরে দু’আ করেছে, যে নামে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যে নামে চাইলে তিনি প্রদান করেন।” (সহিহু সুনানিন নাসাঈ ১/২৭৯, সহিহ)

(৫) দু’আ ইউনুস দিয়ে দু’আ করা :
♦ রাসূল সা. বলেন, যুন্নুন (ইউনুস আ.) মাছের পেটে যে দু’আ করেছিলেন – লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনায যোয়ালিমীন – এ দু’আ দ্বারা যে কোন মুসলিম যে কোন বিষয়ে দু’আ করবে, আল্লাহ অবশ্যই তার দু’আ কবুল করবেন।” (তিরমিযি ৫/৪৯৫, মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/৬৮, সহিহ)
উল্লেখ্য, দু’আ ইউনুস এক প্রকার ইসমে আযম।

(৬) দু’আর প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করা এবং রাসূলের উপর দরুদ পাঠ :
♦ একবার ইবনে মাস’ঊদ রা. সালাতের বৈঠকে বসে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন, অতপর রাসূলের উপর দরুদ পাঠ করেন, তারপর নিজের জন্য দু’আ করেন। তখন রাসূল সা. বলেন, “এখন চাও, তোমার প্রার্থিত বস্তু তোমাকে দেয়া হবে; এখন চাও, তোমার প্রার্থিত বস্তু তোমাকে দেয়া হবে।” (তিরমিযি ২/৪৮৮)
♦ রাসূল সা. বলেন, “সকল দু’আ পর্দার আড়ালে থাকবে, যতক্ষণ না নবির উপর সালাত পাঠ করবে।” (সহিহাহ ৫/৫৪-৫৮, সহিহুত তারগিব ২/১৩৮, হাসান)

(৭) রাতের শেষাংশে ও ফরয সালাতের পর :
♦ রাসূল সা. কে প্রশ্ন করা হলো, ‘কোন দু’আ সবচেয়ে বেশি শোনা হয় বা কবুল করা হয়?’ তিনি উত্তরে বলেন, “রাতের শেষাংশে ও ফরয সালাতের পর।” (তিরমিযি ৫/৪৯২, হাসান)

(৮) জিহাদের ময়দানে, আযানের সময়ে ও আযানের পরে (আযানের জবাব দেয়ার পর) দু’আ কবুল হয় :
♦ রাসূল সা. বলেন, “দুটি দু’আ কখনো ফেরত দেয়া হয় না বা খুব কমই ফেরত দেয়া হয় : আযানের সময় দু’আ (দ্বিতীয় বর্ণনায় ইকামাতের সময়) এবং আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের সময় দু’আ…।” (আবু দাঊদ ৩/২১, হাকিম, ইবনে খুযাইমা, ইবনে হিব্বান, সহিহুত তারগিব ১/১৮০, সহিহ)
♦ রাসূল সা. বলেন, “মুয়াযযিনগণ যা বলে তুমি তা বল (আযানের জবাব দাও)। যখন শেষ করবে, তখন আল্লাহর কাছে চাও; তুমি যা চাইবে তোমাকে তা দেয়া হবে।” (আবু দাঊদ ১/১৪২, সহিহুত তারগিব ১/১৭৭, ১৮১, হাসান)

(৯) জুমু’আর দিনে বিশেষ মুহূর্তে দু’আ কবুল হয় :
♦ অধিকাংশ আলেমের মতে সেই সময়টি সূর্যাস্তের পূর্বের মুহূর্তটি। অনেকের মতে, ইমাম খুতবা শুরুর পর থেকে সালাম ফেরানো পর্যন্ত। (বুখারি ১/৩১৬ মুসলিম ২/৫৮৪, তুহফাতুয যাকিরিন, লি শাওকানি ৪০-৪১)

(১০) আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময় :
♦ রাসূল সা. বলেন, “আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দু’আ ফেরত দেয়া হয় না। অতএব, এ সময়ে তোমরা দু’আ করবে।” (আবু দাঊদ ১/১৪১, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/৩৩৪, সহিহুত তারগিব ১/১৮০, সহিহ)

(১১) এছাড়া দু’আ কবুলের বিশেষ কিছু সময়, স্থান ও মুহূর্ত হলো :
♦ সফর অবস্থায়, হজ্বরত অবস্থায়, রমাদান মাস, ফরয/নফল সিয়াম পালনরত অবস্থায়, ইফতারের সময়, যমযমের পানি পানের সময় ইত্যাদি।ন্যায়পরায়ণ প্রশাসক, মুসাফির, পিতা-মাতা, মাযলুম ব্যক্তি প্রমূখের দু’আ কবুল হয়।

(১২) খাবার, পানীয় ও বস্ত্র হালাল হওয়া :
♦ রাসূল সা. বলেন, “হে লোকেরা! আল্লাহ হলেন পূত-পবিত্র। তিনি পবিত্র ছাড়া কোনোকিছু কবুল করেন না।… কোনো মুসাফির দীর্ঘ সফর শেষে মলিন বদনে আল্লাহর কাছে দু’আ করে বলে, “ইয়া রাব্ব! ইয়া রাব্ব!” অথচ তার আহার হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পরিধেয় পোষাক হারাম, অধিকন্তু সে হারাম দ্বারা পরিপুষ্ট হয়েছে। তাহলে কীভাবে তার দু’আ কবুল হতে পারে?” (মুসলিম, হাদিস নং ২৩৯৩)

সর্বশেষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাদিস- যা আমাদের জানতেই হবে। নয়তো আমরা হয়রান হয়ে যাব।
♥ রাসূল সা. বলেন, “যখনি কোনো মুসলিম পাপ ও আত্মীয়তা নষ্ট করা ছাড়া অন্য যে কোন বিষয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, তখনই আল্লাহ তার প্রার্থনা পূরণ করে তাকে তিনটি বিষয়ের একটি দান করেন : (১) হয় তার প্রার্থিত বস্তুই তাকে সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেন (২) অথবা তার দু’আকে (দু’আর নেকি) তার আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে রাখেন (৩) অথবা দু’আর পরিমাণে তার অন্য কোনো বিপদ তিনি দূর করে দেন। (তিরমিযি ৫/৫৬৬, আহমাদ ৩/১৮)
অন্য এক হাদিসে এসেছে, বান্দা যখন দু’আর বিনিময়ে সঞ্চিত সওয়াবের পরিমাণ দেখবে তখন কামনা করবে, যদি তার কোনো দু’আই দুনিয়াতে কবুল না হতো! সবই যদি আখিরাতের জন্য জমা থাকতো! (তারগিব ২/৪৭৫-৪৭৬, দ্ব’ঈফ) আরো জানতে
♦♦♦ অতএব আমরা যেন কখনো হতাশ না হই! কারণ তিনটি পদ্ধতিতে আমাদের দু’আ কবুল হয়। আমাদের রবই জানেন কোনটি কখন আমাদের বেশি জরুরি। আমাদের ফেসবুক পেইজ


Leave a Reply

Your email address will not be published.