Monday, August 8
Shadow

জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত ও আল্লাহর প্রতি ভয়(পবিত্র কুরানে)

দুটি  রাস্তা। একটি  জান্নাতের আর অন্যটি  জাহান্নামের। সিদ্ধান্ত  আপনার  কোন  রাস্তায়  যাবেন।কিন্তু দেখা  যাচ্ছে  জাহান্নামের  রাস্তায়  বেশি  মানুষ  যাচ্ছে। 

ও মানুষ, কীসে তোমাকে তোমার দয়াময় প্রতিপালকের কাছ থেকে দূরে নিয়ে গেলো? —সূরা আল-ইনফিত্বার,আয়াত :৬

মহিমান্বিত মহান আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কোরআন  মাজীদে উল্লেখ  করেছেন,আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেনে কানন-কুঞ্জের, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ।

তারা সে গুলোরই মাঝে থাকবে। আর এসব কানন-কুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুতঃ এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হল আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হল মহান কৃতকার্যতা।” -(সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭২)।

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,জান্নাতে তোমাদের মন যা চাইবে তাই দেয়া হবে এবং তোমরা সেখানে যা চাইবে তাই পাবে।’( সূরা হা-মীম সিজদা- আয়াত ৩১) 

মহান  আল্লাহ্  পাক পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,নিশ্চয় যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে দাখিল করবেন উদ্যান সমূহে, যার তলদেশ দিয়ে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হবে। তাদেরকে তথায় স্বর্ণ-কংকন ও মুক্তা দ্বারা অলংকৃত করা হবে এবং তথায় তাদের পোশাক হবে রেশমী । তারা পথপ্রদর্শিত হয়েছিল সৎবাক্যের দিকে এবং পরিচালিত হয়েছিল প্রশংসিত আল্লাহর পথপানে।” -(সূরা হাজ্জ্ব, আয়াত: ২৩-২৪ 

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,পরহেযগারদেরকে বলা হয়ঃ তোমাদের পালনকর্তা কি নাযিল করেছেন? তারা বলেঃ মহাকল্যাণ। যারা এ জগতে সৎকাজ করে, তাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে এবং পরকালের গৃহ আরও উত্তম। পরহেযগারদের গৃহ কি চমৎকার? সর্বদা বসবাসের উদ্যান, তারা যাতে প্রবেশ করবে। এর পাদদেশে দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হয় তাদের জন্যে তাতে তা-ই রয়েছে, যা তারা চায়; এমনিভাবে প্রতিদান দেবেন আল্লাহর পরহেযগারদেরকে ।” -(সূরা নাহল, আয়াত: ৩০-৩১)

জান্নাত সম্পর্কে মহান  আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদে আরও  উল্লেখ  করেছেন,- ‘তোমরা তোমাদের প্রভু পরওয়ারদিগারের ক্ষমা লাভের প্রতি দ্রুত ধাবিত হও এবং সে জান্নাতের প্রতি যার আয়তন আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সমান।’ (সূরা আল ইমরান- আয়াত ১৩৩) 

মহান  আল্লাহ্  পাক পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আমি তাদেরকে উদ্যানসমূহে প্রবিষ্ট করাব, যেগুলোর তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত হয়। তারা চিরকাল তথায় অবস্থান করবে। আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সত্য; কথায় আল্লাহর চাইতে অধিক সত্যবাদী কে?” -(সূরা আন নিসা, আয়াত: ১২২) 

মহান আল্লাহ্  তায়ালা পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে । তাদের অন্তরে যা কিছু দুঃখ ছিল, আমি তা বের করে দেব। তাদের তলদেশ দিয়ে নির্ঝরণী প্রবাহিত হবে। তারা বলবেঃ আল্লাহ শোকর, যিনি আমাদেরকে এ পর্যন্ত পৌছিয়েছেন। আমরা কখনও পথ পেতাম না, যদি আল্লাহ আমাদেরকে পথ প্রদর্শন না করতেন। আমাদের প্রতিপালকের রসূল আমাদের কাছে সত্যকথা নিয়ে এসেছিলেন। আওয়াজ আসবেঃ এটি জান্নাত। তোমরা এর উত্তরাধিকারী হলে তোমাদের কর্মের প্রতিদানে।” -(সূরা আল আরাফ, আয়াত: ৪২-৪৩) 

মহান আল্লাহ্ তায়ালা  পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,যারা তাদের পালনকর্তাকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা উম্মুক্ত দরজা দিয়ে জান্নাতে পৌছাবে এবং জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখে থাক, অতঃপর সদাসর্বদা বসবাসের জন্যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর।” -(সূরা আল যুমার, আয়াত: ৭৩) 

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,আজকের দিনে সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে। তাদের জন্যে উদ্যান রয়েছে, যার তলদেশে নির্ঝরিনী প্রবাহিত হবে; তারা তাতেই চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। এটিই মহান সফলতা।” -(সূরা আল মায়িদাহ, আয়াত: ১১৯) 

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,মুত্তাকী লোকদের জন্য ওয়াদাকৃত জান্নাতের নমুনা হলো এই যে, তাতে রয়েছে স্বচ্ছ পানির ঝর্ণাসমূহ, চির সুস্বাদু দুধের প্রবাহ এবং পানকারীদের জন্য বিশেষ স্বাদযুক্ত পানীয়ের প্রবাহ এবং বিশুদ্ধ নহরসমূহ। ঝর্ণাধারা প্রবাহমান হবে স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন মধুর।’ (সূরা মুহাম্মদ- আয়াত ১৫) 

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ করেছেন তা চিরস্থায়ী জান্নাত, যার ওয়াদা পরম করুণাময় তাঁর বান্দাদের দিয়েছেন গায়েবের সাথে। নিশ্চয় তাঁর ওয়াদা-কৃত বিষয় অবশ্যম্ভাবী” সূরা মারয়াম, আয়াত: ৬১ 

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারও চেয়ে বেশী। আর তাদের মুখমন্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হল জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল।” -(সূরা ইউনুস, আয়াত: ২৬)

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,নিঃসন্দেহে আল্লাহর প্রতি সদাসতর্কদের জন্যই রয়েছে চূড়ান্ত সফলতা— বাগানের পর বাগান, আঙ্গুরের সমাহার, আকর্ষণীয় মানানসই জুটি, উপচে পড়া পানপাত্র। সেখানে তারা কোনো ধরনের ফালতু কথা বা মিথ্যা কথা শুনবে না —তোমার রবের পক্ষ থেকে পুরস্কার, এক যথার্থ উপহার। সূরা : —আন-নাবা আয়াত : ৩১-৩৬

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে।” -(সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৫)

মহান  আল্লাহ্  পাক পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,

তারা তার ক্ষীণতম শব্দও শুনবে না এবং তারা তাদের মনের বাসনা অনুযায়ী চিরকাল বসবাস করবে।” -(সূরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০২)

মহান  আল্লাহ্ তায়ালা  পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,যে কেউ আল্লাহ ও রসূলের আদেশমত চলে, তিনি তাকে জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন, যেগুলোর তলদেশ দিয়ে স্রোতস্বিনী প্রবাহিত হবে। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এ হল বিরাট সাফল্য।” -(সূরা আন নিসা, আয়াত: ১৩

আল্লাহ্ কি তাঁর বান্দাহর জন্য যথেষ্ট নন”?(সূরা আয- যুমার – আয়াত,৩৬)  

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,আমার বান্দারা যখন তোমাকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে: অবশ্যই আমি তো সবসময় কাছেই আছি। আমাকে যে ডাকে, আমি তার ডাকেই সাড়া দেই, যখনি সে ডাকে। তাহলে তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দিতে চেষ্টা করে, আমার উপর বিশ্বাস রাখে, যেন তারা সঠিক পথে চলতে পারে। [সূরা আল-বাক্বারাহ,আয়াত, ১৮৬]

মহান আল্লাহ্ তায়ালা  পবিত্র কোরআন মাজীদে  আরও উল্লেখ  করেছেন,নিশ্চয় আমি জ্বীন এবং মানুষকে আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি।(সুরা যারিয়াত – আয়াত ৫৬ ) । আর আল্লাহর দরবারে সর্বশ্রেষ্ট ইবাদত হচ্ছে তার বান্দারা তার কাছে মাথা নত করা ।🕌

মহান আল্লাহ্ তায়ালা  পবিত্র কোরআনে আরও  উল্লেখ করেছেন,কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছো? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে।” -(সূরা বাকারাহ্, আয়াত: ২৮)

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে উল্লেখ  করেছেন,যে কেউ আল্লাহ ও রাসুলের অবাধ্যতা করে এবং তার সীমা অতিক্রম করে তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সে সেখানে চিরকাল থাকবে। তার জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৪)

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন , ‘আল্লাহ জাহান্নামে মুনাফেক ও কাফেরদেরকে একই জায়গায় সমবেত করবেন।’ (সুরা নিসা : আয়াত ১৪০)

 , ‘মহান আল্লাহ  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন , ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের প্রতি অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে সাঈর তথা প্রজ্জ্বলিত (অগ্নি) শিখা তৈরি করে রেখেছেন।’ (সুরা আহযাব : আয়াত ৬৪)

সাকার’ তথা ঝলসানো আগুনএ সম্পর্কে আল্লাহর বাণী হলো- ‘

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন, যেদিন তাদের মখু হেঁচড়ে টেনে নেয়া হবে সাকারে (ঝলসানীয় আগুনে), বলা হবে- অগ্নির খাদ্য আস্বাদন কর।’ (সুরা কামার : আয়াত ৪৮)

‘মহান আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন – ‘কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে পিষ্টকারীর মধ্যে। আপনি কি জানেন, পিষ্টকারী কি? এটা আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত অগ্নি।’ (সুরা হুমাযাহ : আয়াত ৪-৬)

, মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে আরও  উল্লেখ  করেছেন,‘কখনই নয়। নিশ্চয় এটা লেলিহান অগ্নি, যা চামড়া তুলে দিবে। সে (লেলিহান অগ্নি) সেই ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠপ্রদর্শন করেছিল ও বিমখু হয়েছিল।’ (সুরা মাআ’রিজ : আয়াত ১৫-১৭)

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআন  মাজীদে উল্লেখ  করেছেন,মুনাফেক ও সত্য অস্বীকারকারী নর-নারীর জন্যে আল্লাহ নির্দিষ্ট করে রেখেছেন জাহান্নামের অগ্নিকুণ্ড, যেখানে ওরা থাকবে চিরকাল। জাহান্নামই ওদের প্রাপ্য। কারণ আল্লাহ ওদের পরিত্যাগ করেছেন। ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে অনন্ত আজাব।’ (সূরা আত তওবা,আয়াত  ৬৮)

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআনে  আরও  উল্লেখ  করেছেন,

, আর আমি সৃষ্টি করেছি দোজখের জন্য বহু জিন ও মানুষ। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না; চোখ রয়েছে দেখে না; আর তাদের কান রয়েছে শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো; বরং তাদের চেয়েও নিকৃষ্টতর (সুরা আল-আ’রাফ- আয়াত :১৭৯)।

মহান  আল্লাহ্  পাক পবিত্র  কোরআন  মাজীদে উল্লেখ  করেছেন,যদি তারা  সত্য  থেকে  মুখ  ফিরিয়ে  নেয়, তুমি  যেন  রেখো তাদের  কাছে সুস্পষ্ট  করে  আল্লাহর  কথা  পৌঁছে  দেওয়াই  হচ্ছে  তোমার  দায়িত্ব। সূরা : আন  নাহল: আয়াত :৮২ 

মহান  আল্লাহ্  তায়ালা  পবিত্র  কোরআন  মাজীদে আরও  উল্লেখ  করেছেন,তোমার কাজ  কেবল  পৌঁছে দেওয়া কেউ মানুক আর না মানুক আর হিসাবের দায়িত্ব  আমার  উপর।সূরা রা’দ: আয়াত :৪০ 

মহান আল্লাহ্ সবাই কে সহীহ  ভাবে আমল করার তৌফিক  দান করুক।আর জাহান্নামের আগুন  থেকে  হেফাজত  করুক ।আমিন। Joint Our Facebook Group

Leave a Reply

Your email address will not be published.