ফরজ গোসলের কারণ ও ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম।

ফরজ গোসল

 

ফরজ গোসলঃ

আপনি সারাজীবন খুব ভালো ভাবে ইবাদত করে কাটালেন। মৃত্যুর পরে বিচার দিবসে যখন আপনার আমলনামা আপনার হাতে দিবে, তখন দেখলেন আপনার আমলনামায় কোন আমল জমা হয়নি। তখন আপনার চাইতে কপাল পোড়া আর কেউ থাকবে????

 হ্যা এমনটাই হতে পারে,যদি নিয়ম না জেনে ফরজ গোসল করেন। কারণ ফরজ গোসল সঠিক পদ্ধতিতে না করলে সারাজীবনই নাপাক অবস্থায় কাটাবেন। আর নাপাক অবস্থায় কোনো ইবাদাতই কবুল হয়না। অনেকেই লজ্জায় এ বিষয়ে কাওকে জিজ্ঞাসা করেন না,তাদের জন্য আজকে এই পোস্ট টা করলাম।

✅ যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ

১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে( স্বপ্ন দেখুক বা না দেখুক রাতে/দিনে ঘুমন্ত অবস্থায় বীর্যপাত হলে)
২. সহবাসে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।
৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।
৪. ইসলাম গ্রহন করলে (নব-মুসলিম হলে)।

✅ গোসলের ফরজ ৩ টিঃ

১.কুলি করা ফরজ।(৩ বার গরগরা করে কুলি করা সুন্নাত)
২. নাকের নরম হাড় পর্যন্ত পানি পৌছানো ফরজ।(৩ বার এরুপ পানি পৌছানো সুন্নাহ)
৩. সমস্ত শরীর উত্তম রুপে পানি পৌছানো ফরজ।

✅ ফরজ গোসলের সঠিক নিয়মঃ

👉 গোসলের নিয়ত করা (মানে মনে মনে ইচ্ছা পোষন করা,নিয়ত পড়া নয়,নিয়ত অন্তরের বিষয়)
👉 ‘বিসমিল্লাহ’ বলে গোসল শুরু করা।
👉 দুই হাত কবজি পর্যন্ত ধোওয়া (বুখারী ২৪৮)
👉 পানি ঢেলে বাম হাত দিয়ে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা (বুখারী ২৫৭)।
👉 বাম হাতটি ভালভাবে ঘষে ধুয়ে নেওয়া (বুখারী ২৬৬)।
👉 নামাজের ওজুর মতো ভালভাবে পূর্ণরূপে ওজু করা। এক্ষেত্রে শুধু পা দুটো বাকি রাখলেও চলবে, যা গোসলের শেষে ধুয়ে ফেলতে হবে। (বুখারী ২৫৭, ২৫৯, ২৬৫)।
👉 মাথায় পানি ঢেলে চুলের গোড়া ভালভাবে আঙ্গুল দিয়ে ভিজানো। (বুখারী ২৫৮)।
👉 পুরো শরীরে পানি ঢালা; প্রথমে ডানে ৩বার,
পরে বামে ৩বার, শেষে মাথার উপর ৩ বার,যেন শরীরের কোন অংশ বা কোন লোমও শুকনো না থাকে।পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজতে হবে। নাভি, বগল ও অন্যান্য কুঁচকানো জায়গায় অবশ্যই পানি ঢালতে হবে।(বুখারী:১৬৮)
👉 গোসলের জায়গা থেকে একটু সরে গিয়ে দুই পা ধোওয়া।(বুখারী ২৫৭)।

✅ এটাই হচ্ছে গোসলের পরিপূর্ণ পদ্ধতি।

✅ উল্লেখ্য, এইভাবে গোসল করলে এর পরে নামায পড়তে চাইলে আলাদা করে ওযু করতে হবেনা, যদিনা গোসল করার সময় ওযু ভংগের কোনো কারণ ঘটে থাকে।
.
✅ গোসলের পরে কাপড় চেঞ্জ করলে বা হাঁটুর উপরে কাপড় উঠে গেলে ওযু ভাংবেনা, এটা ওযু ভঙ্গের কারণ না।

“হে আল্লাহ! আমাদের না জেনে করা অতীতের ভুলগুলা ক্ষমা করুন এবং এখন থেকে সঠিকভাবে ফরয গোসল করার ও এ জ্ঞান সবার নিকট ছড়িয়ে দেওয়ার তাওফিক দান করুন।”
—- আমীন। 


Leave a Reply

Your email address will not be published.