Monday, August 8
Shadow

সালাতুল হাজাত আদায়ের নিয়ম।

সালাতুল হাজাত আদায়ের নিয়মঃ

সালাতুল হাজাত বা ‘প্রয়োজনের নামাজ’ একটি বিশেষ নফল ইবাদত।

মানুষের বিশেষ কিছুর প্রয়োজন হলে কিংবা শারীরিক-মানসিকভাবে কোনো দুশ্চিন্তা দেখা দিলে এ নামাজ পড়তে হয়।

বিশেষ কোন হালাল চাহিদা পুরনের জন্য আল্লাহ’র উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করাকে “সালাতুল হাজত” বলা হয়।

সালাতুল হাজতের গুরুত্ব ও ফযিলত:

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘সঙ্গত কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য বান্দা নিজ প্রভুর কাছে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবে।’ [সুরা বাকারা : আয়াত-১৫৩]।

হুযায়ফা (রাঃ) বলেনঃ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন সংকটে পড়তেন, তখন সালাতে রত হতেন।[ আবু দাউদঃ ১৩১৯; সালাত অধ্যায়-২, অনুচ্ছেদ-৩১২; ছহিহুল জামেঃ হা/৪৭০৩; মিশকাতঃ ১৩১৫]

এই বিষয়ে হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে।

যখন তিনি অপহৃত হয়ে মিশরের লম্পট বাদশাহ’র নিকট উপনিত হলেন ও অত্যাচারি বাদশাহ তার নিকট এগিয়ে গেল, তখন তিনি অজু করে সালাতে রত হয়ে আল্লাহ’র নিকট সাহায্য প্রাথনা করে বলেছিলেনঃ ‘হে আল্লাহ! এই কাফেরকে তুমি আমার উপর বিজয়ি করোনা।’সংগে সংগে আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন এবং ঐ লম্পট বাদশাহ’র হাত-পা অবশ হয়ে পড়েছিল।তিন-তিনবার ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বিবি সারাকে সসম্মানে মুক্তি দেয়। এবং বহু মুল্যবান উপঢৌকনাদি সহ তার খিদমতের জন্য হাজেরাকে তার সাথে ইবরাহিমের (আঃ) নিকট পাঠিয়ে দেয়।[ বুখারীঃ ২২১৭; কেনা-বেচা অধ্যায়-৩৪, অনুচ্ছেদ-১০০; আহমাদ-৯২৩০ সনদ সহিহ]

সালাতুল হাজত এর নিয়মঃ

সালাতুল হাজত নামাজের আলাদা কোনো নিয়ম নেই।

স্বাভাবিক নামাজের মতোই উত্তমভাবে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়বে।

মনে মনে নিয়ত রাখবেনঃ দুই রাকাত সালাতুল হাজত পড়ছি।

যেহেতু কুরআন হাদীসে এটি আদায় করার আলাদা কোনো নিয়ম বর্ণনা করা হয়নি। তাই এই নামাজ সূরা ফাতিহার সাথে যেকোন সূরা দিয়ে পড়া যায়। অর্থাৎ অন্যান্য স্বাভাবিক নামাজের মতোই উত্তমভাবে অজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে হবে।

নামাজ শেষে অর্থাৎ সালাম ফেরানোর পর আল্লাহ তায়ালার হামদ ও সানা (প্রসংসা) পাঠ করে [হতে পারে সূরা ফাতিহার ১ম আয়াত] এবং নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওপর দরুদ শরিফ পাঠ করে [যেকোন দরুদ শরিফ, দরুদে ইব্রাহিম একবার পড়লে ভালো]

নিজের মনের কথা ব্যক্ত করে আল্লাহর নিকট দোয়া করবে। দোয়ার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে হাদিস শরিফে নিম্নোক্ত দোয়া পাঠের বর্ণনা আছে।

দোয়াটি হলোঃ

-ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﺤَﻠِﻴﻢُ ﺍﻟْﻜَﺮِﻳﻢُ ﺳُﺒْﺤَﺎﻥَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺮْﺵِ ﺍﻟْﻌَﻈِﻴﻢِ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻟِﻠَّﻪِ ﺭَﺏِّ ﺍﻟْﻌَﺎﻟَﻤِﻴﻦَ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﻣُﻮﺟِﺒَﺎﺕِ ﺭَﺣْﻤَﺘِﻚَ ﻭَﻋَﺰَﺍﺋِﻢَ ﻣَﻐْﻔِﺮَﺗِﻚَ ﻭَﺍﻟْﻐَﻨِﻴﻤَﺔَ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺑِﺮٍّ ﻭَﺍﻟﺴَّﻼَﻣَﺔَ ﻣِﻦْ ﻛُﻞِّ ﺇِﺛْﻢٍ ﻻَ ﺗَﺪَﻉْ ﻟِﻲ ﺫَﻧْﺒًﺎ ﺇِﻻَّ ﻏَﻔَﺮْﺗَﻪُ ﻭَﻻَ ﻫَﻤًّﺎ ﺇِﻻَّ ﻓَﺮَّﺟْﺘَﻪُ ﻭَﻻَ ﺣَﺎﺟَﺔً ﻫِﻲَ ﻟَﻚَ ﺭِﺿًﺎ ﺇِﻻَّ ﻗَﻀَﻴْﺘَﻬَﺎ ﻳَﺎ ﺃَﺭْﺣَﻢَ ﺍﻟﺮَّﺍﺣِﻤِﻴﻦَ

উচ্চারণঃ ‘‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহুল ‘হালি-মুল কারি-ম, সুবহা-নাল্লাহি রব্বিল ‘আরশিল ‘আযীম।

আল’হামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন, আছআলুকা মু-জিবাতি রাহমাতিক; ওয়া আজা-ইমা মাগফিরাতিক,

ওয়াল গনি-মাতা মিং কুল্লি বিররিউ ওয়াছ ছালা-মাতা মিং কুল্লি ইছমিন লা- তাদা’আলি- জাম্বান ইল্লা- গফারতাহু ওয়ালা- হাম্মান ইল্লা- ফাররাজতাহু ওয়ালা- হা-জাতান হিয়া- লাকা রিদং ইল্লা- ক্বদাইতাহা- ইয়া- আর’হামার র-হিমি—ন৷” ( – মানে এক আলিফ টান)

অর্থঃ- “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি সহিষ্ণু ও দয়ালু, সকল দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র তিনি, মহান আরশের প্রভু। সকল প্রশংসা আল্লাহর, তিনি সারা জাহানের রব। আপনার কাছেই আমরা যাঞ্ছা করি, আপনার রহমত আকর্ষণকারী সকল পূণ্যকর্মের ওয়াসীলায়, আপনার ক্ষমা ও মাগফিরাত আকর্ষণকারী।

সকল ক্রিয়াকাণ্ডের বরকত, সকল নেক কাজ সাফল্য লাভের এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে নিরাপত্তা লাভের।আমার কোন গুনাহ যেন মাফ ছাড়া না থাকে।কোন সমস্যা যেন সমাধান ছাড়া না যায় আর আমার এমন প্রয়োজন যাতে রয়েছে আপনার সন্তুষ্টি তা যেন অপূরণ না থাকে, হে আর রাহমানুর রাহিমীন; হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।”( ইবনু মাজাহ ১৩৮৪, তিরমিজী ৪৭৯)

সুতরাং দোয়ার ক্ষেত্রে হাদিস শরিফে বর্ণিত উপরোক্ত দোয়াটি অন্যান্য দোয়ার সাথে নামাজের শেষে বিশেষভাবে পড়া যেতে পারে।

তবে দুয়াটি পড়তেই হবে–এমন নয়।আপনি ২রাকাত নফল হাজতের(প্রয়োজনের) নামাজ শেষ করে আপনার মত করে দোয়া করলেও কোনো অসুবিধা নেই।

সালাতুল হাজত কখন পড়া যাবে নাঃ

নিষিদ্ধ সময় ছাড়া বাকি সবসময় পড়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.