Wednesday, August 10
Shadow

আলোচনা ও আমল

শিশুকে মায়ের দুধ পানে ইসলামের বিধান।

শিশুকে মায়ের দুধ পানে ইসলামের বিধান।

আলোচনা ও আমল
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। শিশুকে মায়ের দুধ পানে ইসলামের বিধান।    শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ অপরিহার্য। কারণ মায়ের বুকের দুধে রয়েছে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ ও উপাদানযুক্ত আল্লাহ প্রদত্ত এমন তৈরি খাবার, যা শিশু সহজেই হজম করতে পারে এবং সহজেই শিশুর দেহ বৃদ্ধিতে সহায়ক। তাইতো আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা আলাইহিস সালামের জন্মের পর তাঁর মাকে নির্দেশ দেন, ‘আমি মুসার মায়ের অন্তরে ইঙ্গিতে নির্দেশ দিলাম, তাকে দুধ পান করাও।’ (সুরা কাসাস : আয়াত ৭) জন্মের পর শিশুর জন্য সর্বোত্তম খাবার হলো মায়ের বুকের দুধ। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক নবজাতক শিশুর জন্য মায়ের বুকে দুধ সৃষ্টি করে রাখেন। যা হালকা মিষ্টি ও উষ্ণ; যা নবজাতক শিশুর নাজুক অবস্থার জন্য বিশেষ উপযোগী। নবজাতক শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘স্তন্যদান...
সামাজিক কুসংস্কারের মুক্তির পথ ইসলাম।

সামাজিক কুসংস্কারের মুক্তির পথ ইসলাম।

আলোচনা ও আমল
কুসংস্কার পরিত্যাজ্যঃ একসঙ্গে কয়েকজন বন্ধু বসে গল্প-গুজব করছে। তাদের মধ্যে কেউ উপস্থিত না হলে তার সম্পর্কে পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ হতে থাকে, এমতাবস্থায় সে উপস্থিত হলে- অনেকেই বলে উঠে ‘আপনি অনেকদিন বাঁচবেন। ’ কারণ একটু আগেই আপনার কথাই বলছিলাম! এমনই বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। সমাজজীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে কুসংস্কার সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ এসব কুসংস্কারে বিশ্বাস ঈমানের জন্য মারাত্মক হুমকি। ইসলামে কুসংস্কারের কোনো স্থান নেই। এমন কাজ, কথা ও প্রথা মানা যার কোনো বাস্তব ও ধর্মীয় ভিত্তি নেই। মানুষের তৈরি যুক্তিহীন এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস, কথা, কাজ ও প্রথাকে সহজ বাংলায় কুসংস্কার বলা হয়। এসব কুসংস্কারে কারণে অনেকের জীবন হুমকির সম্মুখীন হয়। আবার কোথাও কুসংস্কারের কবলে জীবনহানীর ঘটনাও ঘটে। কিছু কিছু কুসংস্কার তো শ...
কুসংস্কারের অন্ধকারে জলুক ইসলামের আলো।

কুসংস্কারের অন্ধকারে জলুক ইসলামের আলো।

আলোচনা ও আমল
কুসংস্কারের অন্ধকারে জ্বলুক জ্ঞানের আলো রাত কেন্দ্রিক ২৮টি কুসংস্কারঃ ভূমিকা: ইসলামের দৃষ্টিতে সমস্ত কল্যাণ-অকল্যাণের চাবিকাঠি রয়েছে একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। তার লিখিত তকদিরের বাইরে কেউ কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন বস্তু ও জড়পদার্থ নিজে নিজে কারো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না। কোন পাখির ডাক বা পশুর আওয়াজ মানুষের জন্য কল্যাণ বা অকল্যাণকর বলে বিবেচিত হতে পারে না, কোন বৈধ কাজ কখনো অশুভ হতে পারে না তা রাত বা দিন যখনই করা হোক না কেন। এটা দেখলে এই হয়..ওটা দেখলে ঐ হয় এগুলো সব কুসংস্কার ও জাহেলিয়াত পূর্ণ বিশ্বাস। ইসলাম এ সব ভ্রান্ত বিশ্বাসের কঠোর বিরোধিতা করেছে। মূলত: মানুষের তৈরি যুক্তিহীন এসব ভ্রান্ত বিশ্বাস, কথা, কাজ ও প্রথাকে সহজ বাংলায় কুসংস্কার বলা হয়। ইসলামের সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অশিক্ষা যাবতীয় কুসংস্কার সৃষ্টির মূল কারণ। মানুষ চরম অন্ধবিশ্বাসে নান...
তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা কি জায়েজ?

আলোচনা ও আমল
প্রশ্ন : রোগমুক্তির জন্য যেকোনো প্রকার তাবিজ শরীরে পরা বা বাঁধা জায়েজ আছে কি? উত্তর : এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় উল্লেখ্য। তা হচ্ছে, যেকোনো ধরনের তাবিজ তো মোটেই নয়, বরং কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজও ব্যবহার করা যাবে না। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তাবিজ ঝোলাল, সে ব্যক্তি কুফরি করল এবং শিরক করল। তাবিজ-কবচ যেগুলো লেখা হয়, যাতে কুফরি কালাম থাকে, সেগুলো তো কোনো মুমিন ব্যক্তি পরতে পারবে না। তবে কোরআনুল কারিমের আয়াত লেখা কোনো তাবিজ কেউ পরতে পারবে কি না, এ ব্যাপারে আলেমদের দুই মত। অনেক আলেমের মতে এরূপ তাবিজ ব্যবহার জায়েজ। আরেটি হচ্ছে যে, এভাবে কোনো তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা যাবে না। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেছেন, এটা দ্বারা পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমার হাতে কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ থাকবে, আরেকজনের হাতে থাকবে কুফরি কালাম লেখা তাবিজ। আরেকটি বিষয় হলো, কোরআনের আয়াত লেখা তাবিজ নিয়ে ত...
সালাতুল হাজাত আদায়ের নিয়ম।

সালাতুল হাজাত আদায়ের নিয়ম।

আলোচনা ও আমল
সালাতুল হাজাত আদায়ের নিয়মঃ সালাতুল হাজাত বা ‘প্রয়োজনের নামাজ’ একটি বিশেষ নফল ইবাদত। মানুষের বিশেষ কিছুর প্রয়োজন হলে কিংবা শারীরিক-মানসিকভাবে কোনো দুশ্চিন্তা দেখা দিলে এ নামাজ পড়তে হয়। বিশেষ কোন হালাল চাহিদা পুরনের জন্য আল্লাহ’র উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করাকে “সালাতুল হাজত” বলা হয়। সালাতুল হাজতের গুরুত্ব ও ফযিলত: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘সঙ্গত কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য বান্দা নিজ প্রভুর কাছে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবে।’ [সুরা বাকারা : আয়াত-১৫৩]। হুযায়ফা (রাঃ) বলেনঃ রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোন সংকটে পড়তেন, তখন সালাতে রত হতেন।[ আবু দাউদঃ ১৩১৯; সালাত অধ্যায়-২, অনুচ্ছেদ-৩১২; ছহিহুল জামেঃ হা/৪৭০৩; মিশকাতঃ ১৩১৫] এই বিষয়ে হযরত ইবরাহিম (আঃ) এর ঘটনা স্মরণ করা যেতে পারে। যখন তিনি অপহৃত হয়ে মিশরের লম্পট ব...
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নিয়ম ।

তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নিয়ম ।

আলোচনা ও আমল
তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের নিয়মঃ আরবি ‘তাহাজ্জুদ’( تهجد )শব্দের আভিধানিক অর্থ রাত জাগরণ বা নিদ্রা ত্যাগ করে রাতে নামাজ পড়া। শরিয়তের পরিভাষায় রাত দ্বিপ্রহরের পর ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যে নামাজ আদায় করা হয় তা-ই ‘সালাতুত তাহাজ্জুদ’ বা তাহাজ্জুদ নামাজ। ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ। পবিত্র কোরআনে তাহাজ্জুদ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ হল সমস্ত আম্বিয়াগণের সুন্নাত। আল্লাহ তায়ালার মাহবুব বান্দাগণের অভ্যাস। আর আল্লাহর সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক স্থাপন তথা নৈকট্য ও সন্তোষ অর্জনের অন্যতম পন্থা। তাহাজ্জুদের ফজিলত প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ নামাজ কায়েম করুন। এটা আপনার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়- আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন মাকামে মাহমুদ তথা প্রশংসিত স...
দ্রুত বিবাহের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় আমল।

দ্রুত বিবাহের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় আমল।

আলোচনা ও আমল
বিষয়:- নারীদের জিজ্ঞাসা সংক্রান্ত। বিয়ে হচ্ছেনা, কী করব? দ্রুত বিবাহের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আমল আছে কী? জবাবঃ দ্রুত বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আমল নেই। বিয়ের নির্দিষ্ট আমল না থাকলেও আল্লাহর নিকট দোয়া ও কিছু আমল করা যাবে, যার ফলে আল্লাহ চাইলে দ্রুত বিবাহের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন ইনশা-আল্লাহ। আমলঃ দ্রুত বিয়ের জন্য আপনি আল্লাহর কাছে দু'আ করুন।সালাতুল হাজত পড়ে দু'আ করুন। সূরা ফুরকানের ৭৪ নং আয়াত পাঠ করবেন। একাকি ফরয নামায বা নফল নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ,সহ দু'আয়ে মাছুরা পড়ার পর সূরায়ে ফুরকানের ৭৪নং আয়া পড়তে পারেন।অনেক বুজুর্গানে কেরাম ও শায়েখগণ এ আ'মলের পরামর্শ দিয়েছেন। সূরা ফুরকান এর ৭৪ নং আয়াতে মহান আল্লাহ্পাক বলেন وَالَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُت...
পুরুষদের জন্য লাল ও হলুদ পোশাক পরিধান করার বিধান।

পুরুষদের জন্য লাল ও হলুদ পোশাক পরিধান করার বিধান।

আলোচনা ও আমল
পুরুষদের সম্পূর্ণ একরঙের লাল ও হলুদ কাপড় পড়া নিষেধ। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পুরুষদেরকে সম্পূর্ণ একরঙের লাল ও হলুদ কাপড় পড়তে নিষেধ করেছেন। উমার রাদিয়াল্লাহু আ'নহু বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে লাল রঙের পোশাক পড়তে নিষেধ করেছেন। ( ইবনে মাজাহ ৩৫৯১ ) তবে অন্য হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, শুধু এক কালারের লাল না হয়ে লালের মাঝে যদি অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকে তাহলে সেটা পড়া জায়েজ আছে। “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইয়েমেনি লাল হুল্লাহ পড়েছেন।” (বুখারী ৫৮৪৮) উল্লেখ্যঃ তৎকালীন যুগে ইয়েমেনি লাল হুল্লাহর মাঝে কালো স্ট্রাইপ/চেক থাকতো। এ থেকে প্রমানিত হয় যে, লালের মাঝে অন্য রঙের চেক/স্ট্রাইপ থাকলে সেটা পড়া জায়েজ। ইবনুল কাইয়্যিমঃ যাআদ আল-মাআদ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আলি রাদিয...
একটু চিন্তা করুন ও সতর্ক হনঃ পোশাকের কারণে জাহান্নামী।

একটু চিন্তা করুন ও সতর্ক হনঃ পোশাকের কারণে জাহান্নামী।

আলোচনা ও আমল
একটু চিন্তা করুন ও সতর্ক হন; পোশাকের কারণে জাহান্নামীঃ : পুরুষঃ নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তিন প্রকার লোক এমন রয়েছে, যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না, কেয়ামতের দিন তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্র করবেন না বরং, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।” এইকথা শুনে সাহাবী আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? ওরা তো ক্ষতিগ্রস্ত!” নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তারা হচ্ছে, টাখনুর নীচে কাপড় পরিধানকারী (এমন পুরুষ), ব্যবসার সামগ্রী মিথ্যা কসম দিয়ে বিক্রয়কারী এবং কাউকে কিছু দান করার পর তার খোটাদাতা।” [সহীহ মুসলিম, ঈমান অধ্যায়, নং ২৯৪] কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া অনেক যুবক ভাইয়েরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফ্যাশান করতে গিয়ে ইয়াহুদী-খ্রীস্টানদের মতো টাখনুর নীচে প্যান্ট পরছেন। অনেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’...
ফরজ গোসলের কারণ ও ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম।

ফরজ গোসলের কারণ ও ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম।

আলোচনা ও আমল
  ফরজ গোসলঃ আপনি সারাজীবন খুব ভালো ভাবে ইবাদত করে কাটালেন। মৃত্যুর পরে বিচার দিবসে যখন আপনার আমলনামা আপনার হাতে দিবে, তখন দেখলেন আপনার আমলনামায় কোন আমল জমা হয়নি। তখন আপনার চাইতে কপাল পোড়া আর কেউ থাকবে????  হ্যা এমনটাই হতে পারে,যদি নিয়ম না জেনে ফরজ গোসল করেন। কারণ ফরজ গোসল সঠিক পদ্ধতিতে না করলে সারাজীবনই নাপাক অবস্থায় কাটাবেন। আর নাপাক অবস্থায় কোনো ইবাদাতই কবুল হয়না। অনেকেই লজ্জায় এ বিষয়ে কাওকে জিজ্ঞাসা করেন না,তাদের জন্য আজকে এই পোস্ট টা করলাম।  যে সব কারণে গোসল ফরজ হয়ঃ ১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে( স্বপ্ন দেখুক বা না দেখুক রাতে/দিনে ঘুমন্ত অবস্থায় বীর্যপাত হলে)২. সহবাসে (সহবাসে বীর্যপাত হোক আর নাই হোক)।৩. মেয়েদের হায়েয-নিফাস শেষ হলে।৪. ইসলাম গ্রহন করলে (নব-মুসলিম হলে)।  গোসলের ফরজ ৩ টিঃ ১.কুলি করা ফরজ।(৩ বার গরগরা করে ...